22 September 2026 Tuesday, 05:35 PM
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 05:35 PM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

সুনামগঞ্জে পানির নিচে বোরো ধান, বাড়ছে কৃষকের দুশ্চিন্তা; এসবিসি বার্তা নিয়ে পাশে সুশীলন

21 September 2026 05:57 PM 34 ভিউ মোঃ সাইফুল হাসান, মনিটরিং এন্ড ট্রেইনিং অফিসার

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সুনামগঞ্জ। টাঙ্গুয়ার হাওর, বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ, মাছের প্রাচুর্য এবং হাসন রাজা ও আব্দুল আলিমের মতো গুণী মানুষের কারণে জেলার পরিচিতি দেশজুড়ে। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই রয়েছে হাওরপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার গল্প।

দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, দীর্ঘ সময় পানিবন্দি জীবন, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, পুষ্টিহীনতা এবং আকস্মিক বন্যা—এসব যেন হাওরবাসীর নিত্যসঙ্গী। আর এবার সেই দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে আকস্মিক বন্যা ও টানা বর্ষণ।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, জেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান। কিন্তু অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক ঢলে এখন হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত।

কৃষকেরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না তারা। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় রিপার মেশিনও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নৌকা ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটছেন অনেকে।

তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, “কষ্ট করে আবাদ করা জমির ধান চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে। কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছি, কিন্তু সব রক্ষা করা যাচ্ছে না।”

ধর্মপাশা উপজেলার কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক জমির ধান এখনো কাটা হয়নি। আবার যে ধান কাটা হয়েছে, সেটিও শুকাতে না পারায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষায় ৬০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে নতুন করে হাওরে পানি প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “টানা বৃষ্টি ও রোদ না থাকায় ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব নির্ধারণে কাজ চলছে।”

এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মা, নবজাতক, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় কাজ করছে জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের বাস্তবায়িত এসবিসি সুনামগঞ্জ প্রকল্প।

প্রকল্পের মাঠকর্মীরা দুর্গম হাওরাঞ্চলে গিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, নিরাপদ প্রসব পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রস্তুতি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবজাতক ও শিশুদের পরিচর্যা, সময়মতো টিকাগ্রহণ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা এবং পরিবারের বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সদস্যদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে শুধু খাদ্য বা আর্থিক সহায়তা নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক সহমর্মিতা এবং মানসিক সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই লক্ষ্যেই হাওরপাড়ের মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে সুশীলনের এসবিসি সুনামগঞ্জ প্রকল্প।

মানবিক সহায়তায় সুশীলন সংখ্যা: ৩
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র