12 May 2026 Tuesday, 12:25 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:25 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

দুযোর্গে মানুষের পাশে সুশীলন

13 April 2026 05:48 PM 19 ভিউ জি এম মনিরুজ্জামান, উপ-পরিচালক, সুশীলন

দুযোর্গে মানুষের পাশে সুশীলন:
ভূমিকা:  দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চল বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক দুযোর্গপ্রবণ এলাকা। এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রায়ই মানুষের জীবন ও জীবিকায় বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে। ঘরবাড়ি ভাঙন, ফসলের ক্ষতি, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও খাদ্য সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে সুশীলন ২০০০ সালে সাতক্ষীরা জেলার বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সুশীলন দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করা।
সুশীলন দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি, তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ায়। নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, খাদ্য ও নিরাপদ পানি সরবরাহ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিকল্প জীবিকায় সহায়তার মাধ্যমে সংগঠনটি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলাই সুশীলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ জানে—প্রকৃতির ভয়াবহ আঘাতের সময় যেমন ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা কিংবা বন্যা, নদী ভাঙন, কোভিড—১৯ এর ভয়ংকর, সীমাহীন কষ্টের সময় তাদের পাশে ভরসার নাম হয়ে দাঁড়ায় “সুশীলন”।
২০০০ সালে সাতক্ষীরা জেলায় ভারতের ইছামতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্লাবিত হয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে অসহায় জীবন যাপন করে। সে সময় সুশীলন দাতা সংস্থা কনসার্ন ওয়াল্ডওয়াইড এর সহযোগতিায় পানিবন্দী অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। 
সুশীলন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট,বরগুনা,পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, কক্সবাজার, রংপুর, গাইবান্ধা, নেত্রকোণা, ফেনী, নোয়াখালী জেলায় বিভিন্ন দুর্যোগে অবদান রেখে চলেছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্নিঝড়Ñসিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরা বুলবুল, আম্ফান, ইয়াস, সিত্রাং, মোখা, রেমাল) কোভিড—১৯ এই সকল দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুর্যোগের ঝঁুকি বিশ্লেষণ করা (সিআরএ), যে কোন দুর্যোগের পরে প্রভাবের তীব্রতা মূল্যায়ন, বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্ষমতা উন্নয়ন,ইউনিয়ন পরিষদের কন্টিজেন্সি প্লান তৈরি, পারিবারিক পর্যায়ে কন্টিজেন্সিপ্লান তৈরি,দুর্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ছবি নাটক প্রর্দশনী, দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুত, দুর্যোগ চলাকালীন উদ্ধার কাজ ও সেল্টারে আনা, জরুরী ত্রান বিতরন, অর্থ বিতরন, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, কাজের বিনিময়ে টাকা, পূর্নবাসন, নন ফুড আইটেম বিতরন, ডিগনিটি কিটস্ বিতরন, স্যানীটারী ন্যাপকিন, হাইজিন কিডস্, নিউট্রিশন ফুড বিতরন,সাইক্লোন সেল্টার তৈরি, দুর্যোগ মোকাবেলায় ফুড ব্যাংক ও সিড ব্যাংক তৈরি, নতুন ঘর তৈরি, ঘর মেরামত, ঘরের উপকরন সরবরাহ,দুর্যোগসহনশীল মডেল ভিলেজ তৈরি,বসতভিটা উঁচুকরন,ল্যাট্রিন তৈরি, জলবাযুর সাথে খাপ খাওয়ানো সবজী উদপাদন, প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি,জলাবাযু পরিবর্তনে কৃষক মাঠ স্কুল তৈরি ও তাদের প্রশিক্ষন দেওয়া, বীজ বিতরন, ভেড়ী বাধ তৈরি ও মেরামত, খাল পুন:খনন, কেল্লা তৈরি, মাঠ ভরাট, স্কুলমাঠ ভরাট, মাটির রাস্তা তৈরি, ইট সোরিং রাস্তা তৈরি, বনায়ন, সোলার ও বন্ধু চুলা, দুর্যোগসহনশীর আইজিএ (কাঁকড়া মোটাতাজা করন, বস্তায় সবজী চাষ, হস্তশিল্প, ড্রামের মাধ্যমে খাঁচা তৈরি করে সবজী চাষ ও কাঁকড়া চাষ) দুর্যোগ মোকাবেলায় নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কোভিড কালীন সময়ে মানুষকে সচেতন করা, চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ, নগদ অর্থ বিতরন করা ইত্যাদি কার্যক্রমে বিভিন্ন দ্বাতা সংস্থা যেমন— Conce World Wide, WFP, UNDP, Unicef,  BBL, CARE Bangladesh, DFID, USAID, ECHO, BWDB, CDMP, Christian Aid Bangladesh, Action Aid Bangladesh, ACF, Oxfam, Water Aid Bangladesh, NGO Forum, HISWA, Solidarity Inteational, FAO, Start Network  

সহ বিভিন্ন অর্থায়নে দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে তাদের ত্রান অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা, স্থায়িত্বশীল জীবিকায়নের জন্য, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আপদে মোকাবেলার জন্য উপকূলের এক অতন্দ্র প্রহরী সুশীলন। 
ক্ষতিগ্রত ও অসহায় মানুষকে দুর্যোগকালীন সময়ে সহযোগীতা কাভারেজ 
সাল    দুর্যোগের ধরন    এলাকা    উপকারভোগীরসংখ্যা
২০০০    বন্যা    সাতক্ষীরা    ৩০০০
২০০১    বন্যা ও জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর    ১২১৩৩
২০০২    জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর    ৪০২৫
২০০৩    জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা    ২৪৮৭
২০০৪    জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা    ২০২৫
২০০৫    ভূমিহীন আন্দোলন    সাতক্ষীরা    ৩৫০
২০০৬    জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা    ২০০০
২০০৭—০৮    ঘূর্নিঝড় সিডর    সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল,পিরোজপুর, বরগুনা    ২০৮৪২২
২০০৮—০৯    ঘূর্নিঝড় সিডর, আইলা, জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল,পিরোজপুর, বরগুনা    ২১৯৬০৬
২০০৯—১০    ঘূর্নিঝড় আইলা    সাতক্ষীরা, খুলনা,    ১৯৬৬৭৫
২০১০—১১    ঘূর্নিঝড় আইলা, জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর,খুলনা,    ২০১৭৪০
২০১১—১২    ঘূর্নিঝড় আইলা, জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর,খুলনা,    ১৮২৪০০
২০১২—১৩    ঘূর্নিঝড় আইলা, মহাসেন, জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর,খুলনা, পটুয়াখালী, বরগুনা,ভোলা    ১১৬৭৮০
২০১৩—১৪    ঘূর্নিঝড় মহাসেন, জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর, কক্সবাজার    ৪২৮৪৫
২০১৪—১৫    জলাবদ্ধতা, অতিরিক্ত জোয়ারের পানি    সাতক্ষীরা, যশোর, কক্সবাজার    ৩৮৯৬২
২০১৫—১৬    ঘূর্নিঝড় রোয়ানু, জলাবদ্ধতা    সাতক্ষীরা, যশোর, ভোলা, বরগুনা,কক্সবাজার    ২৭৬৫৫
২০১৭—১৮    ঘূর্নিঝড় ফণি    বরগুনা    ১২৫
২০১৮—১৯    ঘূর্নিঝড় বুলবুলি    সাতক্ষীরা    ৮৬৫
২০২০—২১    ঘূর্নিঝড় আম্ফান    খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা,     ৯৮৮৩৩
২০২০—২৩    রোহিঙ্গা রেন্সপন্স    কক্সবাজার    ১৮০০
২০২১—২৪    রোহিঙ্গা রেন্সপন্স    কক্সবাজার    ৪০১৭৪
২০২৩—২৩    রোহিঙ্গা রেন্সপন্স    কক্সবাজার    ১০০০
২০২৩—২৫    রোহিঙ্গা রেন্সপন্স    কক্সবাজার    ৮৯০
২০২৪—২৪     রোহিঙ্গা রেন্সপন্স    কক্সবাজার    ৩০৮
২০২৪—২৫    রোহিঙ্গা রেন্সপন্স    কক্সবাজার    ২১৯৫০
২০২৪—২৫    রেমাল রেন্সপন্স    সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর     ৬৯০০০

১০ লক্ষ মানুষকে দুর্যোগে ত্রান সহযোগীতা করা, ১৫০কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ নির্মান, ৩০০টি খাল পুন:খনন, ১০টি মাটির কেল্লা তৈরি,৫৫টি মাঠ ভরাট, ৩৫০কি:মি: মাটির রস্তা তৈরি, ২০কি:মি: ইট সোলিং রাস্তা তৈরি, ৩০,০০০—এর বেশি ঘরবাড়ি নির্মাণ, ২টি সাইক্লোন সেল্টার তৈরি, ২টি দুর্যোগসহনশীল মডেল ভিলেজ তৈরি, কোভিড—১৯ মহামারির সময় প্রায় ১ লক্ষ পরিবারকে জরুরি সহায়তা প্রদান, ৫০০টির বেশি পুকুর খনন/পুনঃখনন, ৫০০টির বেশি পিএসএফ (PSF) পুনর্নির্মাণ ও মেরামত, ১০,০০০—এর বেশি পরিবারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা স্থাপন, নদীর পানি পরিশোধন (রিভার ওসমোসিস) পদ্ধতির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ, ২০,০০০ এর বেশি অগভীর ও গভীর নলকূপ স্থাপন এবং কক্সবাজারের ৩১টি এফডিএমএন (FDMN) ক্যাম্পে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

জি এম মনিরুজ্জামান
উপ—পরিচালক সুশীলন
 

মানবিক সহায়তায় সুশীলন সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র