12 May 2026 Tuesday, 01:28 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 01:28 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গা মানবিক সংকটে সুশীলনের ভূমিকা (২০১৮—বর্তমান)

13 April 2026 05:21 PM 14 ভিউ সুশীলন

রোহিঙ্গা মানবিক সংকটে সুশীলনের ভূমিকা (২০১৮—বর্তমান)
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকট হিসেবে পরিচিত। এই প্রেক্ষাপটে, ২০১৮ সাল থেকে সুশীলন কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় অভিজ্ঞতা, কমিউনিটি—ভিত্তিক কাজের দক্ষতা এবং সরকারি—বেসরকারি অংশীদারদের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশীলন এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব
সুশীলন শুরু থেকেই সরকারি সংস্থা যেমন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (জজজঈ), ক্যাম্প—ইন—চার্জ (ঈরঈ), এবং বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক (ডঅঝঐ, ঐবধষঃয, চৎড়ঃবপঃরড়হ, ঋড়ড়ফ) সমন্বয় কাঠামোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সির সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পুনরাবৃত্তি এড়াতে সহায়তা করছে।
নিরাপত্তা, জীবন জীবিকাভিত্তিক (Livelihood) কার্যক্রম 
সুশীলন শুরু থেকেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর  নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবিকা উন্নয়ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। সুশীলন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন কারীগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং উত্‌পাদিত পন্য বাজারজাতকরনে সহযোগিতা করছে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সুশীলন বাড়ী ভিত্তিক কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম চালু রেখেছে যা রহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
পানি সরবরাহ (Water Supply) কার্যক্রম
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সুশীলন পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন, টিউবওয়েল খনন, রিজার্ভার স্থাপন এবং পানির মান পরীক্ষার মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করছে। উচঐঊ—এর সাথে চুক্তির আওতায় বিভিন্ন ওয়াটার ডিস্ট্রিবিউশন জোনে (ডউত) নিয়মিত পানি সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে লক্ষাধিক পরিবার উপকৃত হচ্ছে। পানি গুণগত মান পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত ল্যাব টেস্টিং ও ক্লোরিনেশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও হাইজিন প্রমোশন
সুশীলন স্বাস্থ্য ও হাইজিন প্রমোশনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ (ইঈঈ) কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি ব্যবহার, এবং স্যানিটেশন চর্চার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নিয়মিত ক্যাম্পেইন, উঠান বৈঠক, স্কুলভিত্তিক কার্যক্রম এবং কমিউনিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়ন
সুশীলনের অন্যতম শক্তি হলো কমিউনিটি—ভিত্তিক পদ্ধতি। ক্যাম্পের ভলান্টিয়ার, মহিলা গ্রুপ, যুব দল এবং কমিউনিটি লিডারদের সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর ফলে সেবার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসইতা নিশ্চিত হয়। সুশীলন স্থানীয় কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বাধা দূর করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ করেছে।
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি সাড়া প্রদান
কক্সবাজার উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় সুশীলন দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদানে সক্রিয়। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি বা ভূমিধসের সময় দ্রুত সাড়া প্রদান, আগাম সতর্কতা প্রচার এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কমিউনিটির সাথে কাজ করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ পানি, হাইজিন কিট এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত বিতরণ করা হয়।
চ্যালেঞ্জ ও শেখা অভিজ্ঞতা
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করতে গিয়ে সীমিত জায়গা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং তহবিলের অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সুশীলন তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে স্থানীয় কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
বর্তমানে সুশীলন সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় পুষ্টি, জীবন ভিত্তিক কার্যক্রম, ডঅঝঐ, স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমাধান, যেমন নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ অবকাঠামো এবং কমিউনিটি—নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও হোস্ট কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাও সুশীলনের একটি অগ্রাধিকার।
উপসংহার
রোহিঙ্গা সংকটে সুশীলনের কার্যক্রম মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন এবং টেকসইতার একটি সমন্বিত উদাহরণ। ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সুশীলন যে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যতে বৃহৎ মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুশীলন তার অংশীদারদের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা কমিউনিটি সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র