12 May 2026 Tuesday, 12:24 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:24 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে ক্ষাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ— পর্ব—১

13 April 2026 05:43 PM 33 ভিউ জি এম মনিরুজ্জামান, উপ-পরিচালক, সুশীলন

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে ক্ষাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ— পর্ব—১ 
সুশীলন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের টিকে থাকা, খাপ খাওয়ানো, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামান নির্বাহী প্রধান সব সময় চিন্তা করেন এ এলাকার মানুষের ভবিষ্যৎ তাদের টিকে থাকা এবং বিরূপ পরিবেশের মধ্যে কিভাবে মানুষ তাঁর জীবিকায়ন, তাঁর সংস্কৃতি, তাঁর স্বায়িত্বশীলতা রক্ষন হবে । আর সেজন্য ৩০০ এর অধিক প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূল অঞ্চলের মানুষের জন্য কার্যক্রম ধরে রেখেছেন দাতা সংস্থার সহায়তায় । মৃত্তিকা সম্পদ, লবনাক্ত মাটিতে ধানচাষ ও সামন্নিত কৃষি ব্যবস্থা, ডাইক ক্রপিং, সুষম সার ব্যবহার, কম্পোষ্ট ব্যবস্থাপনা , জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, কৃষি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, খাচায় মাছ চাষ, ভাসমান চাষ , বস্তায় সবজি চাষ , কাকড়া মোটা তাজা করণ সহ জলবায়ু সহনশীল কৃষি নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সুশীলন। দাতা সংস্থা ইরি, বারি, বিনা, ইউকেএইড, আইএনসিএন,কনসার্ন ওয়াল্ড ওয়াইড, অক্সফাম, ওয়ার্ল্ড ফিস, কেএনসিএফ,এনজিও ফাউন্ডেশন, এফএও, এসিএফ, ল্যান্ডেসা, বিশ^ খাদ্যকর্মসুচি সহ অন্যান্য দাতা সংস্থার সহায়তায় উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে খুলনা , সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর, কক্সবাজার, পটুয়াখালী অঞ্চলে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে । ২০০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততার পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু সহনশীল কিছু উদ্যোগ এ পর্বে তুলে ধরা হল ঃ 
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরা, বছরের অধিকাংশ সময় কোন কোন না দুর্যোগকে সাথে নিয়ে অত্র এলাকার মানুষের জীবন ধারণ করতে হয় । যেমন — ঘুর্নিঝড়, লবনাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্ঠি, খরা, নদী ভাঙন, বজ্রপাত এবং ভুমিকম্প। ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্র উপকুলবর্তী হওয়া এবং বিশ^বিখ্যাত সুন্দুরবনের পাশ^র্বর্তী এবং উপকুলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষ প্রায় প্রতি বছর বিভিন্ন প্রকার প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড়ের প্রভাবে পানিবন্দি এবং অর্থনৈতিকভাবে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে এই জেলা বঙ্গোপসাগর এর কাছাকাছি এবং এর একাংশ সুন্দরবনের লাগায়ো হওয়ায় ঘূর্নিঝড় সরাসরি এখানে আঘাত হানে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে লোনা পানি কৃষি জমিতে প্রবেশ করে  এবং দীর্ঘদিন পানি জমে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মানুষ এ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সংগ্রাম করতে করতে অর্থনৈতিক ভাবে চরম দারিদ্রতার মধ্যে পড়ে জীবিকার সন্ধানে এলাকা ছেড়ে কাজের জন্য দেশে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। অনেকের একটু হলেও চলার মত সম্পত্তি ছিল কিন্তু লবনাক্ততা, বন্যা এবং খরার কারণে সে জমির ব্যবহার করতে না পেরে রীতি মত হতাশ হয়ে অনত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সুশীলন এ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে তারমধ্যে থেকে একটি প্রকল্পের কথা এ পর্বে তুলে ধরা হলো। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসিএফ এর সহযোগিতায়  সুশীলন এর বাস্তবায়নে জলাবদ্ধতা নিরাসন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এবং তালা উপজেলায় মৃতপ্রায় খালগুলো খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরাসনে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় কমিউনিটি ক্লিনিক এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০১৮ সাল থেকে এসিএফ এর কারিগরি সহযোগিতা এবং সুশীলন এর বাস্তবায়নে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তাহীনতা মোকাবেলা করার জন্য জলবায়ু সহনশীল এবং উন্নত জীবিকার জন্য বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের পরিবার ও জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর, ব্রক্ষ্মরাজপুর এবং ফিংড়ী ইউনিয়নের ৭৫০ পরিবারকে নগদ অর্থ, বিভিন্ন ধরণের উপকরণ, প্রশিক্ষণ, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ স্থাপন, স্থানীয় সরকার এর সাথে সমন্বয়, ভিটা উচুকরণ, বসত ভিটায় বিভিন্ন প্রকার প্রযুক্তি ( টাওয়ার ক্রাপিং, বস্তায় সবজি চাষ, ক্যারোট, ককসিট, মাচা, বেড, মালচিং, ভাসমান, অব্যবহৃত পাত্র, রিং সহ অন্যান্য) ব্যবহার এর মাধ্যমে দুর্যোগ সহনশীর সবজি চাষ, একাধিক আয়বর্ধনমুলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন, গ্রুপ ভিত্তিক  গ্রামীন সঞ্চয়, গো খাদ্যে চাহিদা এবং পুষ্টি বিবেচনায় নিয়ে মাটি ছাড়া  ঘাস উৎপাদন, জৈব সার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ভার্মি চাষ সহ কম্পোষ্ট সার উৎপাদনে উৎসাহিত করা সহ নানাবিধ কার্যক্রম বা¯তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় মানুষ উপকারভোগীদের দেখে এবং সহায়তা নিয়ে তাদের বাড়ীতেও এসকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। 
প্রকল্পের উপকারভোগীরা তাদের বাড়ীতে উৎপাদিত ওর্গানিক শাক—সবজি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পুরন করা সহ বিক্রি করে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হচ্ছে এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার আয়বর্ধনমুলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করছে এবং সেখান থেকে যে যার সাধ্য মত সঞ্চয় করছে।
সর্বপরি প্রত্যেকটি পরিবার আজ তাদের জীবন মান উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে পাশাপাশি পরিবারের নারীরাও অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল, তারা পরিবার সহ সমাজের প্রত্যেক ক্ষেত্রে তাদের মতামত এবং অধিকার যথেষ্ট সচেতন। 

জি এম মনিরুজ্জামান
উপ—পরিচালক সুশীলন

 

উন্নয়ন সহযোগীর সফলতার গল্প সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র