12 May 2026 Tuesday, 12:24 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:24 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

সফলতার গল্প: আসমার সংগ্রাম ও আত্মনির্ভরতার পথচলা

13 April 2026 06:08 PM 30 ভিউ শিরীনা আক্তার, উপ-পরিচালক, সুশীলন

 সফলতার গল্প: আসমার সংগ্রাম ও আত্মনির্ভরতার পথচলা
আসমা বেগম, গ্রাম বালি পাড়া,ইন্দুরকানী, পিরোজপুর, তিনি সুশীলন এর স্বপ্ন প্রকল্প—২ এর একজন স্বপ্ন কমীর্। অনেক সংগ্রামী জীবন তার এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার জীবন। জীবনের অনেক ঘাত প্রতিঘামের মধ্যে দিয়ে তিনি সামনে পথ চলছেন এবং সমাজের একজন উপকারী মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। এতিমধ্যে তিনি গ্রামের সাধারণ একজন নারী হয়েও অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছেন। নিজের পরিশ্রম, উদ্যোগ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের জীবনই বদলাননি, বরং এলাকার অনেক নারীর জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। তার এই অসাধারণ অবদানের জন্যই তিনি  ইউএডিপির কাছ থেকে “নির্ভয়া নারী” উপাধিতে ভূষিত হয়ে অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন।
আসমা একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তিনি কাপড় ফেরি করে বিক্রি করেন। এই ছোট ব্যবসা থেকেই তিনি মাসে প্রায় ১০,০০০ টাকা আয় করেন, যা তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিজের পরিশ্রম ও ধৈর্যে্যর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, সামান্য উদ্যোগ থেকেও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
শুধু তাই নয়, তিনি রোজকার সঞ্চয় থেকে ৭,২০০ টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনেছিলেন। পরবর্তীতে সেই দুটি ছাগল থেকে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৫০,০০০ টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্যোগ নেওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
আসমা সামাজিক কাজেও সমানভাবে সক্রিয়। এসডিএফ থেকে বিনামূল্যে পাওয়া ঔষধ তিনি তার ফেরি ব্যবসার পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করে থাকেন। এতে করে গ্রামের অনেক মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
এছাড়া, এইচডিএফ সংস্থা থেকে নারীদের জন্য ৯,০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আসমা নিজ উদ্যোগে এলাকায় ঘুরে ঘুরে ৫০ জন নারীর একটি তালিকা প্রস্তুত করে এসডিএফ—এর কাছে প্রদান করেন। তার প্রচেষ্টার ফলেই ওই তালিকা থেকে ৪৫ জন নারী প্রত্যেকে ৯,০০০ টাকা করে অনুদান পান এবং বর্তমানে তারা বিভিন্ন ছোট ব্যবসা পরিচালনা করে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
আসমার এই উদ্যোগ, নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নারীতে পরিণত করেছে। তার এই সংগ্রাম ও সফলতার গল্প অন্য নারীদের জন্যও সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শিরীনা আক্তার
উপ—পরিচালক—প্রোগ্রাম ও প্রধান জেন্ডার সেল, সুশীলন

 

উন্নয়ন সহযোগীর সফলতার গল্প সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র