12 May 2026 Tuesday, 12:24 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:24 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

অন্ধকার ভেঙে আলোর পথে . . . মারুফা সুলতানার সংগ্রামী জীবনের 

13 April 2026 05:59 PM 72 ভিউ সুশীলন

অন্ধকার ভেঙে আলোর পথে . . . . 
                     মারুফা সুলতানার সংগ্রামী জীবনের 

বাংলাদেশের দক্ষিণ—পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া মারুফা সুলতানার জীবন সংগ্রাম, সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত উদাহরণ। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্য, অসুস্থতা, সামাজিক কটূক্তি এবং ব্যক্তিগত জীবনের অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তিনি পথচলা শুরু করেন। 
এই সব বাধা তাকে থামাতে পারেনি; বরং প্রতিটি বাধাই তাকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছে। আজ তিনি একজন সফল উন্নয়নকর্মী হিসেবে সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তার জীবনগল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি অসংখ্য নারীকে সাহস জোগানোর, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এবং নতুন স্বপ্ন দেখার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
শৈশবের সংগ্রাম
মারুফা সুলতানার জন্ম সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারে। পরিবারে চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বাড়ি ছিল অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে ভালো মানের কোনো স্কুল ছিল না। পড়াশোনা করতে গেলে তাকে অনেক দূরে যাতায়াত করতে হতো। সে সময় রাস্তা দুর্গম, পরিবহন সীমিত। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া ছিল শারীরিক ও মানসিক কষ্টের। তবে মারুফার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তাকে কখনো থামাতে পারেনি। তার বাবা ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। সীমিত আয়ের মধ্যেও তিনি সন্তানদের মানুষ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। ছোটবেলা থেকেই মারুফা বাবার সেই সংগ্রাম দেখেছেন এবং তার মধ্যে জন্ম নেয় এক দৃঢ় সংকল্প—একদিন তাকে এই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। এই সংকল্প থেকেই অল্প বয়সেই তিনি টিউশনি শুরু করেন। নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলেও শিক্ষকতা করতেন। অভাব, কষ্ট এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা থামাননি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
জীবনের প্রথম বড় আঘাত: 
সংগ্রামের এই পথ চলার মাঝেই ঘটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একদিন হঠাৎ এক রাতে বাসার একটি সিলিং ফ্যান তার বুকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন।
প্রায় দুই থেকে তিন মাস তাকে শারীরিক যন্ত্রণার সাথে লড়াই করতে হয়। চিকিৎসার জন্য তার বাবাকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেই সময় পরিবারের আর্থিক অবস্থা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
কিন্তু এই কঠিন সময়ও তাকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং জীবনের প্রতি তার দৃঢ়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন—সংগ্রামই জীবনের বাস্তবতা, আর সেই সংগ্রামকেই শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
ভেঙে পড়া সংসার, কিন্তু না ভাঙা মন: 
সুস্থ হওয়ার পর আবার নতুন করে শুরু করেন তিনি। ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন এবং আগের মতোই টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন।
কিন্তু জীবনের পথে আবারও আসে এক অপ্রত্যাশিত ঝড়—একটি বিয়ে। পরিবারের সিদ্ধান্তে তার বিয়ে হয়। কিন্তু সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্বামীর নেশাগ্রস্ত জীবনযাপন এবং দায়িত্বহীনতার কারণে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।
একজন ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী হিসেবে সমাজের নানা কটু কথা, অবজ্ঞা এবং নেতিবাচক মন্তব্য তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। অনেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাজনক কথা বলেছিল।
কিন্তু মারুফা থেমে যাননি। বরং তিনি সিদ্ধান্ত নেন—নিজের শক্তি, পরিশ্রম এবং সাহস দিয়ে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়বেন।
জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়: 
এই সময় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন—এ নিয়োগ চলছে। তিনি আবেদন করেন এবং লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। অবশেষে তিনি চাকরিটি পান।
এই চাকরি তার জীবনে যেন নতুন আলোর সূচনা করে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনসংগ্রাম আরও কাছ থেকে দেখেন। মানুষের দুঃখ—কষ্ট তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই সুযোগ তাকে নতুন শক্তি এবং নতুন উদ্দেশ্য দেয়।
মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তার নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং পরিশ্রম তাকে সামনে এগিয়ে দেয়। তিনি পদোন্নতি পেয়ে খুলনার কয়রা উপজেলায় জেন্ডার অর্গানাইজার হিসেবে নবযাত্রা প্রকল্পে কাজ শুরু করেন।
সেখান থেকেই তার জীবনের নতুন পরিবর্তন শুরু হয়। সমাজের মানুষ তাকে নতুনভাবে দেখতে শুরু করে। যারা একসময় তাকে নিয়ে কটূ কথা বলত, তারাই ধীরে ধীরে তার কাজের প্রশংসা করতে শুরু করে।
জীবন ও দারিদ্র্যের বাস্তবতা
শৈশব থেকেই মারুফাকে বুঝতে হয়েছিল যে জীবন সহজ নয়। তাকে শুধু নিজের পড়াশোনা নয়, পরিবারকে সহায়তা করতেও হবে। তার ভাই—বোনদের পড়াশোনা ও জীবনের দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল।
তার ভাইকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করে তিনি তাকে আজ একটি সরকারি চাকরিতে পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন। তার বোনও তার জীবনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্বে নির্ভরশীল ছিল। বোনের বিয়ের ও দায়িত্ব তাকে নিতে হয়েছে।
দায়িত্বের কাছে ব্যক্তিগত জীবন: 
দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে ২০২০ সালের ৩০ জুলাই তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই সময়টিও ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। সেই সময় পুরো দেশ করোনা মহামারির সাথে লড়াই করছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কঠিন সময়ে তিনি সুশীলনের জরুরি প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। মানুষের দুঃখ—কষ্ট তার চোখের সামনে প্রতিদিন ভেসে উঠছিল। সুশীলন তার জীবনে যে নতুন পরিচয়, সম্মান এবং সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিল—সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ছিল গভীর।
তাই নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ঘটনাও—বিয়েকেও তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দিতে পারেননি। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও অনেক কষ্ট করে তিনি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কিন্তু বিশ্রাম না নিয়েই আবার কর্মস্থলে ফিরে যান এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার কাছে তখন মানুষের কান্না ব্যক্তিগত সুখের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।  
মোহাম্মদ বুলবুল আহমেদের সাথে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের এক বছর পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং তাদের কোলজুড়ে ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়—তার নাম মোহাম্মদ আবরার মাহির। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ সহজ ছিল না। তাকে ধৈর্য, আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়ে সবার ভালোবাসা অর্জন করতে হয়েছে। নিজের সংসারের পাশাপাশি বোন ও তার সন্তানের দায়িত্বও তাকে নিতে হয়েছে।
তারপরও পরিবার এবং কর্মজীবনের মধ্যে সমন্বয় করে মারুফা জীবনের প্রতিটি দায়িত্ব পালন করছেন। স্বামী মোহাম্মদ বুলবুল আহমেদ ও সুশীলনে যোগদান করেন, যা তাদের জীবনকে নতুন দিক এবং আলোকিত পথ প্রদান করেছে। সুশীলনে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে তারা একসাথে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং পরিবার ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছেন। বর্তমানে ছেলে সন্তান এবং স্বামী নিয়ে তিনি পরিবারে অনেক সুখী জীবন কাটাচ্ছেন।

সন্তানকে দূরে  রেখে কাজ করার সংগ্রাম: 
মারুফা তার পেশাগত কাজের জন্য তার জেলার বাইরে কাজ করতেন যখন তার ছেলে মাত্র ১ বছর ৩ মাস বয়সী তখন থেকে এই ছোট্ট সন্তানের কথা মাথায় রেখে তাকে নিজের কাছে না রেখে কাজ করা তার কাছে এক অমোঘ মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। তিনি ছেলেকে তার মায়ের কাছে রেখে কাজ করতেন , কিন্তু দূর থেকে তার জন্য বুক ফেটে যেত।
প্রতিদিন মা হিসেবে সন্তানের কথা মনে রাখা, তার সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করা—সবই তার অন্তরের কাছে চাপ সৃষ্টি করত। তবু তিনি বুঝতেন যে নিজের পেশাগত দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও মারুফা থেমে যাননি। তিনি নিজের আবেগ ও দায়িত্বকে শক্তিতে পরিণত করে কাজ করেছেন। মায়ের কাছে সন্তান রেখে দূরে থাকা মানসিক চাপ এবং তীব্র অনুভূতি তাঁকে আরও দৃঢ়, ধৈর্যশীল এবং সহনশীল করে তুলেছে।
তার এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, একজন মা হওয়া মানেই পেশাগত জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব নয়। একজন নারী মা হিসেবে পরিবার এবং সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম, এবং নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে পারে।
নতুন পরিবার, নতুন অর্জন: 
বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ শুরুতে খুব সহজ ছিল না। কিন্তু নিজের ধৈর্য, আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সবার ভালোবাসা অর্জন করেন। তার কর্মজীবনেও সাফল্য আসতে থাকে। একজন নারী হিসেবে মারুফাকে সংসার সামলানো, স্বামীকে সহযোগিতা করা, শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব, নিজের ভাই—বোনদের জীবন সামলানো—সবকিছু একসাথে করতে হয়েছে। তার জীবনের এই দায়িত্বগুলো তাকে কঠোর পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল এবং সহনশীল করে তুলেছে। তার কর্মজীবনেও সাফল্য আসে এবং তিনি ২০১৯—২০২০ সালে শ্রেষ্ঠ কর্মীর সম্মাননা অর্জন করেন। 
বর্তমান পথচলা: 
বর্তমানে মারুফা সুলতানা পটুয়াখালী জেলার স্বপ্ন প্রকল্পে প্রকল্প সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সমাজের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার সন্তান এখন ৪ বছর ২ মাস বয়সী। এই সময়ও ছেলে তার নানার বাড়িতে থাকে, যাতে মারুফা পেশাগত কাজের সঙ্গে সন্তানের সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন। মা হিসেবে নিজের সন্তানকে কাছে না রেখে, দূরের জেলা পটুয়াখালী জেলায় কাজ করা তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন হলেও, তিনি থেমে যাননি।
তার সংগ্রামী জীবন এবং পেশাগত অঙ্গীকার একসাথে মিলিয়ে, তিনি পরিবার, সন্তান এবং সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই যাত্রা প্রমাণ করে—একজন নারী মা হিসেবে দূরবর্তী কর্মক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রেখে সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব।  
তার কর্মজীবনে একটি বড় অনুপ্রেরণার নাম সুশীলনরে উপ পরিচালক , শিরিনা আক্তার। তার সাহসী নেতৃত্ব এবং অনুপ্রেরণা মারুফাকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। 
ভবিষ্যতের স্বপ্ন: 
মারুফার স্বপ্ন—সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও কুসংস্কার দূর করা। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারীও সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে এবং বড় কিছু অর্জন করতে পারে।
নিজের সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি চান আরও অনেক নারী সাহস পাবে, নিজেদের শক্তিতে এগিয়ে যাবে এবং নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পাশাপাশি, মারুফা নিজের জীবনের উন্নয়নের জন্যও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি জানেন—জীবনে অসংখ্য বাধা আসবে, কিন্তু সেসব বাধাকে অতিক্রম করেই তিনি নিজের জীবনকে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছে দিতে চাই।
একজন নারী হিসেবে তার লক্ষ্য কেবল পেশাগত সফলতা নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও দায়িত্বশীল থাকা—সংসারের দায়িত্ব, সন্তানের যত্ন, শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব, ভাই—বোনদের যত্ন ও ভবিষ্যৎ—সবকিছু সামলিয়ে তিনি জীবনকে পরিশ্রম ও দৃঢ়তায় এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। এই কঠোর পরিশ্রম এবং সংকল্পের মাধ্যমে তিনি নিজেকে এবং অন্য নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার পথ তৈরি করতে চান।
শেষকথা: 
মারুফা সুলতানার জীবন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়— সংগ্রাম মানুষকে কখনো শেষ করে দেয় না; বরং তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। দারিদ্র্য, অসুস্থতা, সামাজিক অপমান এবং জীবনের নানা বাধা অতিক্রম করে তিনি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়— একজন নারীর সাহসই পারে তার ভাগ্য বদলে দিতে, আর সেই সাহসই একদিন সমাজকেও বদলে দিতে পারে।

মারুফা সুলতানা
প্রকল্প সমন্বয়কারী,সুশীলন
স্বপ্ন—২ প্রকল্প

সংগ্রামী নারীর গল্প সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র