12 May 2026 Tuesday, 12:24 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:24 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

“সুশীলন টাইগার পয়েন্ট—জীবন উৎকর্ষ প্রাঙ্গণ”

13 April 2026 06:22 PM 27 ভিউ শারমিন আক্তার ময়না

“সুশীলন টাইগার পয়েন্ট—জীবন উৎকর্ষ প্রাঙ্গণ”
সুশীলন ২০০৮ সালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জে, সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠে “সুশীলন টাইগার পয়েন্ট”—জীবন উৎকর্ষ প্রাঙ্গণ”। খুলনা থেকে খুলনা সাতক্ষীরা থেকে  সদর হয়ে শ্যামনগর রুটে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে এবং যশোর বিমান বন্দও থেতে ১৩৫কি:মি: দূেও অবস্থিত। সুন্দরবনের কোল ঘেেঁষে অবস্থিত হওয়ায় এ স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপার ও মোহনীয়। 
এই মনোরম প্রাঙ্গণের অন্যতম আকর্ষণ হলো গেস্ট হাউসটি, যা নির্মাণ করেছেন সুশীলনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান। তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল প্রকৃতির মাঝে, শান্ত ও মনোরম পরিবেশে একটি সুন্দর গেস্ট হাউস গড়ে তোলা—যেখানে মানুষ শুধু বিশ্রামই নেবে না, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করবে। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপই আজকের এই “সুশীলন টাইগার পয়েন্ট জীবন উৎকর্ষ প্রাঙ্গণ”—এর গেস্ট হাউস। উল্লেখযোগ্য যে, এই গেস্ট হাউসটিতে বসেই প্রিয় উপকূলবন্ধু তার রচিত বহু গান লিখেছেন, যা এই স্থানটিকে আরও সৃজনশীল ও অনুপ্রেরণাময় করে তুলেছে।
প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতেই বাম পাশে চোখে পড়ে সবুজ গাছগাছালির ছায়ায় গড়ে ওঠা তিনতলা বিশিষ্ট একটি সুরম্য গেস্ট হাউস। গেস্ট হাউজে প্রবেশ করতেই দেখা যায় একটি সুসজ্জিত ও আকর্ষণীয় অভ্যর্থনা কক্ষ, যা অতিথিদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। এখানে বিভিন্ন প্যাকেজ মূল্যে অতিথিদের থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। ছায়াঘন প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থানকালে অতিথিরা শুধু আরামদায়ক কক্ষে বিশ্রামই নেন না, বরং প্রশস্ত ডাইনিং হল যেখানে একসাথে ৭০জনের ও বেশী মানুষ খাওয়া দাওয়ার সুযোগ পাবে একই সাথে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সুস্বাদু খাবারও উপভোগ করতে পারেন।
গেস্ট হাউজের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে অতিথি কক্ষের পাশাপাশি একটি আধুনিক সভা ও সেমিনার কক্ষ সেখানে প্রায় ১০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও এখানে একটি বৃহৎ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (ট্রেনিং সেন্টার) রয়েছে, যেখানে একসাথে প্রায় ৯০০ অধিক মানুষ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গেস্ট হাউজের সামনে রয়েছে অতিথিদের গাড়ি রাখার জন্য একটি প্রশস্ত পার্কিং স্পেস এবং তার সামনেই শান বাঁধানো একটি বড় পুকুর। পুকুরটির চারপাশে ছায়াঘন পরিবেশে বসে পড়ন্ত বিকেল বা সন্ধ্যা উপভোগ করা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ইচ্ছা করলে অতিথিরা এখানে সাঁতার কাটা বা গোসল করার সুযোগও পান। পুকুর ও পার্কিং স্পেসের পাশেই রয়েছে একটি প্রশস্ত খেলার মাঠ, যেখানে শরীরচর্চা ও বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। এক সময় এই মাঠেই প্রতি বছর সুশীলন দিবস অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতো, যা স্থানীয় জনগণের জন্য ছিল এক আনন্দঘন মিলনমেলা।
মাঠের পাশেই অবস্থিত সুশীলন সুন্দরবন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পুরো প্রাঙ্গণটি এতটাই বিস্তৃত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে যে এখানে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে মানুষ প্রকৃতির মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা ফুল এবং পাখির কলতানে পরিবেশ সবসময় প্রাণবন্ত থাকে।
প্রাঙ্গণের দক্ষিণ দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় পুকুর, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হয়। এই পুকুরগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য মিষ্টি পানির এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং একই সাথে মাছ চাষের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পুকুরপাড় ও আশপাশের জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করা হয়। পাশাপাশি আম, জাম, নারিকেল, সবেদা, কেওড়া প্রভৃতি ফলজ বৃক্ষ এবং নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ এই প্রাঙ্গণকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশেই গড়ে উঠেছে “উপকূলবন্ধু জীববৈচিত্র কেন্দ্র”, যেখানে অসংখ্য পাখি ও জীবজন্তু নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে। এখানে পাখিদের নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয়, যা জীববৈচিত্র সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুকুরপাড় থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হলে দেখা যায় একটি কাঠের ঘানি ঘর, যেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করা হয়। এই তেলই এখানকার ডাইনিং ও কর্মরতদের খাবার প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়, যা স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রাকৃতিক খাদ্যব্যবস্থার অংশ।
ঘানি ঘরের পাশেই রয়েছে একটি আধুনিক পোল্ট্রি খামার, যেখানে অর্গানিক পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পালন করা হয়। এর পাশেই রয়েছে একটি আধুনিক ছাগলের খামার এবং একটি পরিচ্ছন্ন গরুর খামার, যেখানে উন্নত জাতের পশু পালন ও প্রজনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই খামার থেকে উৎপন্ন গরুর মলমূত্র ব্যবহার করে একটি আধুনিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন করা হয়, যা টেকসই উন্নয়নের এক বাস্তব উদাহরণ।
সর্বোপরি, “সুশীলন টাইগার পয়েন্ট জীবন উৎকর্ষ প্রাঙ্গণ” শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি সমন্বিত, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনব্যবস্থার প্রতীক। এখানে প্রকৃতি, মানুষ এবং জীববৈচিত্র একে অপরের সাথে সুষমভাবে সহাবস্থান করছে। এটি এক জীবন্ত শিক্ষালয়, যা আমাদের শেখায়—কিভাবে প্রকৃতিকে ভালোবেসে, তাকে রক্ষা করে এবং তার সাথে মিলেমিশে একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।

শারমিন আক্তার ময়না
এ্যাসিসটেন্ট এ্যাডমিন ম্যানেজার

 

টাইগার পয়েন্ট সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র