12 May 2026 Tuesday, 12:24 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:24 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

গীতিকার, সুরকার উপকূলবন্ধু— মোস্তফা নুরুজ্জামানের রচিত গান বিষয়ক....প্রথম পর্ব,,,,,

13 April 2026 06:25 PM 53 ভিউ রিমা আক্তার

গীতিকার, সুরকার উপকূলবন্ধু— মোস্তফা নুরুজ্জামানের রচিত গান বিষয়ক....প্রথম পর্ব,,,,,

লবন জলের গন্ধে ভেজা যে মাটি, সেখানে জন্ম নেওয়া মানুষের কণ্ঠে থাকে এক অদ্ভুত গভীরতা, একদিকে বেদনার নোনাধারা, অন্যদিকে আশার সবুজ অঙ্কুর। বাংলাদেশের দক্ষিণ—পশ্চিম উপকূল যেন এক চলমান উপাখ্যান; এখানে প্রতিটি ঢেউ একটি গল্প বলে, প্রতিটি ঝড় একটি ইতিহাস লিখে যায়। জোয়ার—ভাটার ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষ বাঁচে, হারায়, আবার নতুন করে গড়ে তোলে জীবন।

শৈশব থেকেই তাঁর হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে ছিল এক অদৃশ্য সুর।  কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাঁধনে নয়, কোনো মঞ্চের আলোয় নয়, নিজের মতো করে, আপনমনে তিনি গেয়ে বেড়াতেন। গ্রামের নির্জন পথ, বিকেলের সোনালি রোদ, কিংবা ভেজা উঠোন, সবই ছিল তাঁর ছোট্ট শ্রোতা।  কখনো মাঠের ধারে, কখনো নদীর পাশে, কখনো বা একাকী কোনো কোণে, সুর যেন নিজে থেকেই এসে বসত তাঁর কণ্ঠে। সেই গানগুলো ছিল না শেখা, ছিল অনুভবের শিশুমনের সরলতা আর অজানা আবেগে তৈরি।  হয়তো তখনও তিনি জানতেন না, এই আপনমনে গেয়ে বেড়ানোই  একদিন তাকে হাজারো মানুষের হৃদয়ের কণ্ঠে পরিণত করবে।

২০২৩ সালের ৮ই মার্চ, যেন নিঃশব্দে ইতিহাস হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সেই বিকেলে, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই, কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই, হঠাৎ শব্দেরা এসে ভিড় করে তাঁর কলমে। যেন এতদিন ধরে জমে থাকা অনুভূতিগুলো একসাথে মুক্তি চাইছিল। সেদিন থেকে শুরু হয় এক অবিরাম সৃষ্টিযাত্রা।
শব্দেরা আর কেবল শব্দ থাকে না, তারা হয়ে ওঠে মানুষের গল্প, জীবনের টুকরো টুকরো প্রতিচ্ছবি।
সুরেরা আর কেবল সুর থাকে না,তারা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার সাহস।
আজ সেই যাত্রায় সৃষ্টি হয়েছে ১৫০০—এরও বেশি গানÑযেখানে প্রতিটি শব্দ এক একটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি ছন্দ এক একটি উপলব্ধির প্রতিধ্বনি।

উপকূলবন্ধুর গানের সবচেয়ে বড় শক্তি, এর কথা।
এখানে সুর পথ দেখায়, কিন্তু শব্দ পথ তৈরি করে।  
এই গানগুলো সাজানো নয়, নির্মিত নয়,  এগুলো জন্ম নিয়েছে জীবনের ভেতর থেকে।
মাটির গন্ধ, মানুষের কান্না, শিশুর হাসি, মায়ের মমতা, সবকিছু যেন শব্দ হয়ে উঠে আসে।
আর এই সৃষ্টির ভেতরে একটি বিশেষ ধারা  আকাঙ্ক্ষা সংগীত— যেখানে মানুষের অপ্রকাশিত ইচ্ছা, না—পাওয়ার ব্যথা, ছোট ছোট স্বপ্ন আর অজানা আকুলতা একসাথে বোনা হয়েছে।
এই গানগুলো শোনার সময় মনে হয় এ যেন আমারই গল্প, আমারই না বলা কথা।

উপকূলবন্ধুর গান কোনো এক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,  এ যেন এক জীবন্ত বিশ্বকোষ।
এখানে আছে প্রেম—যা কখনো নির্মল, কখনো অপ্রকাশিত, কখনোবা ব্যথাভরা।
আছে মা, অসীম মমতার প্রতীক হয়ে। আছে আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আত্মীয়তার উষ্ণতা। 
প্রকৃতিও এখানে এক জীবন্ত চরিত্র
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, বসন্তের রঙিন হাওয়া, সুন্দরবনের নিঃশ্বাস, ষড়ঋতুর পরিবর্তন সবই গানের শরীরে মিশে গেছে।
একই সঙ্গে আছে দেশাত্মবোধ, নারী জাগরণ, মানুষের  স্বপ্ন, বনজীবীদের সংগ্রাম।
আঞ্চলিক ভাষার সরলতা, জীবনীভিত্তিক গভীরতা, এমনকি মহাকাব্যিক বিস্তৃতিও, সব মিলিয়ে এই গানগুলো হয়ে উঠেছে এক সম্পূর্ণ জীবনচিত্র।
যখন সুশীলনের সাংস্কৃতিক দল— এই গানগুলো গাইতে শুরু করে, তখন তারা বুঝতে পারে এগুলো কেবল পরিবেশনার জন্য লেখা নয়।
এগুলো বাঁচার জন্য, অনুভব করার জন্য, নিজেকে নিজের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার জন্য।
তখনই জন্ম নেয় একটি নতুন পরিচয়Ñ“উপকূলবন্ধুর গান”।
যা ধীরে ধীরে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নেয় এবং তৈরী একটি সুরের স্রোত, যা মানুষের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

উপকূলবন্ধুর গান কেবল সংগীত নয় এ এক জীবন্ত দর্শন।
এখানে ভালোবাসা আছে, বেদনা আছে, সংগ্রাম আছে, আর আছে অদম্য আশার আলো।
এই গানগুলো আজ মানুষের কণ্ঠে বেঁচে আছেÑ
কখনো “হৃদয়ে বাজাও বাঁশি”—র আসরে,
কখনো নিরিবিলি কোনো সন্ধ্যায়,
কখনো একা কারও মনে নিঃশব্দে। 

“উপকূলবন্ধুর গান” তাই শুধু গান নয়,
এটি এক জনমানুষের আত্মা,
এক মানুষের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি,
আর এক অন্তহীন সৃষ্টির অভিযাত্রা।

রিমা আক্তার
কালচারাল টীম ম্যানেজার, সুশীলন

 

উপকূলবন্ধু সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র