12 May 2026 Tuesday, 12:24 AM
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 12:24 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

উপকূলের হৃদয়ে সুশীলন: উপকূলবন্ধু খেতাবের গল্প

13 April 2026 05:26 PM 24 ভিউ শিরীনা আক্তার, উপ-পরিচালক, সুশীলন

উপকূলের হৃদয়ে সুশীলন: উপকূলবন্ধু খেতাবের গল্প 
সুশীলনের ত্রিশ বছরের পথচলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়; এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং টেকসই উন্নয়নের এক অনন্য দলিল। এই যাত্রার সূচনায় ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা—মোস্তফা নুরুজ্জামান। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেনাদোনা গ্রামের এই মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর নিজ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সুশীলন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুশীলন উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা, বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলে যখন মানুষের জীবন থমকে যায়, তখন সুশীলন তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সৃজনশীল উদ্যোগ এবং মানবিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়িয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছে। ধীরে ধীরে সুশীলন পরিণত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের আস্থার এক নির্ভরযোগ্য প্রতীকে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, জীবিকায়ন উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুশীলনের বহুমুখী কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশীলন এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে “সবার নীচে সবার পিছে” মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছে।
এই দীর্ঘদিনের নিরলস সেবা, আত্মত্যাগ এবং ভালোবাসার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর সুশীলনের ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপকূলবাসী সুশীলনের নির্বাহী প্রধানকে “উপকূলবন্ধু” খেতাবে ভূষিত করেন। এই সম্মাননা কেবল একজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি সুশীলনের প্রতিটি কর্মী, সহযোগী এবং শুভানুধ্যায়ীর প্রতি উপকূলবাসীর গভীর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন।
“উপকূলবন্ধু” খেতাব সুশীলনের জন্য এক গর্বের মাইলফলক, যা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিকভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। উপকূলের মানুষের সঙ্গে এই আত্মিক বন্ধনই সুশীলনের সবচেয়ে বড় শক্তি—যা সুশীলনকে আগামী দিনগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সুশীলনের বিশ্বাস—মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করাই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। আর সেই স্বীকৃতিই আজ “উপকূলবন্ধু” নামে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উপকূলবাসীর হৃদয়ে সুশীলনের প্রতি আস্থা, নির্ভরতা ও জনগনের সংগঠন— প্রতীক হয়ে থাকবে।

শিরীনা আক্তার
উপ—পরিচালক—প্রোগ্রাম ও প্রধান জেন্ডার সেল, সুশীলন

 

উপকূলবন্ধু সংখ্যা: ১
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র