28 June 2026 Sunday, 01:44 AM
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ রবিবার, 01:44 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

“হৃদয়ে বাজাও বাঁশি- “উপকূলবন্ধুর লেখা গানের মাসিক গানের অনুষ্ঠান”

26 June 2026 03:50 PM 25 ভিউ ম্যাক্সমূলার সরকার, অনলাইন এডিটিং এন্ড ডিজিটাল মিউ

গান অনুভূতির ভাষা,যা শব্দের সীমা পেরিয়ে জীবনের অসংখ্য অব্যক্ত কথা বলে যায়। বাংলার উপকূলে জন্ম নেওয়া সংগীত রূপকার উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান,গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী, তাঁর সৃষ্টিতে সুর কেবল শ্রুতিমধুরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং হয়ে ওঠে জীবনময় এক একটি বাণী, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজের অনুভূতিরই প্রতিফলন খুঁজে পায়।

এই গানগুলোকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে, বিনোদনের পাশাপাশি জীবনবোধ, অনুভূতি ও চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে, সুশীলন সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে ২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে শুরু হয় উপকূলবন্ধুর গানের মাসিক অনুষ্ঠান হৃদয়ে বাজাও বাঁশি।

২০২৩ সালের ৮ মার্চ উপকূলবন্ধুর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিনই রচিত হয় তাঁর প্রথম গান আমার মনের গভীরে। সেই সূচনা থেকেই তাঁর গানের জগৎ বিস্তৃত হতে থাকে,প্রেম, প্রকৃতি, বৃষ্টি, আঞ্চলিক জীবন নিয়ে, বিভিন্ন মাত্রার অনুভূতি ধরা পড়ে তাঁর সৃষ্টিতে। প্রায় দেড় হাজার গানের এই ভাণ্ডার আজ একক শিল্পীর সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের জীবনেরই এক প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

“হৃদয়ে বাজাও বাঁশি নামটি নেওয়া হয়েছে তাঁর ৮নং গানের বাণী থেকে। এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে দেশ প্রেম ও দেশের মায়ায়  অন্তর জাগিয়ে তোলা। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শুধু গান শোনানো নয়, বরং গানকে উপলব্ধি করা, তার ভেতরের ভাবনা ও দর্শনকে বোঝা এবং সেই অনুভূতিকে নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা।

অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব একটি নির্দিষ্ট ভাবনা বা থিমকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়। যেমন-প্রেম, প্রকৃতি, বৃষ্টি, আঞ্চলিক জীবন কিংবা সুন্দরবনের প্রেক্ষাপট। প্রতিটি থিম অনুযায়ী গান নির্বাচন করা হয় এবং সেই গানকে ঘিরে তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা। শুধুমাত্র গান গাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিটি পরিবেশনার আগে বা মাঝে গানের পেছনের গল্প, প্রেক্ষাপট ও অনুভূতি ব্যাখ্যা করা হয়, যাতে দর্শক-শ্রোতারা গানের গভীরে প্রবেশ করতে পারেন।

এখানে শিল্পীরা কেবল গায়ক হিসেবেই নয়, একজন গল্পকার ও পরিবেশক হিসেবেও নিজেদের উপস্থাপন করেন। কোথাও নৃত্যের মাধ্যমে গানের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়, কোথাও অভিনয়ের মাধ্যমে গানের গল্পকে দৃশ্যমান করা হয়, আবার কোথাও দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে সুরের আবহ তৈরি করা হয়। রাধাকৃষ্ণভিত্তিক পর্বগুলোতে কীর্তনের ঢঙে প্রবেশ, গ্রামীণ আবহে আঞ্চলিক গানের উপস্থাপনা, নাটকীয় আবহে উপস্থাপন-এসবই অনুষ্ঠানে এনে দেয় বৈচিত্র্য ও প্রাণ।

এই আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ। সুশীলনের কর্মীরা শুধু দর্শক নন, তাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, গান শেখেন, বুঝতে চেষ্টা করেন এবং ধীরে ধীরে এই গানের ধারাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করেন। এর মাধ্যমে গানগুলো শুধু মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ছড়িয়ে পড়ে মাঠপর্যায়ে, সাধারণ মানুষের জীবনে।

এ পর্যন্ত মোট ২০টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে-প্রেমভিত্তিক ১৫টি, সাধারণ ২টি এবং আঞ্চলিক, সুন্দরবন ও বৃষ্টিভিত্তিক ১টি করে পর্ব। এই পর্বগুলোতে পরিবেশিত হয়েছে ২১১টি গান। অংশ নিয়েছেন ২৯ জন শিল্পী, যার মধ্যে কালচারাল টিমের বাইরে ১৫ জন ছিলেন অতিথি শিল্পী। প্রতিটি পর্বেই ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া, ভিন্ন উপস্থাপনা এবং সৃজনশীলতার প্রকাশ।

“হৃদয়ে বাজাও বাঁশি” তাই কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া-গানকে বোঝা, অনুভব করা এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার এক প্রচেষ্টা। উপকূলবন্ধুর গানের সুর যেন শুধুই শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কারণ, যে গান একবার হৃদয়ে বাজে, তার প্রতিধ্বনি দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকে।

উপকূলবন্ধু সংখ্যা: ২
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র