28 June 2026 Sunday, 01:43 AM
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ রবিবার, 01:43 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

উপকূলবন্ধুর গান: শিল্পী তৈরির এক অনন্য পাঠশালা

26 June 2026 04:14 PM 70 ভিউ ম্যাক্সমূলার সরকার, অনলাইন এডিটিং এন্ড ডিজিটাল মিউ

“উপকূলবন্ধুর গান: শিল্পী তৈরির এক অনন্য পাঠশালা” হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ—পশ্চিম উপকূলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন, ভালোবাসা ও অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ এর যাত্রা শুরু হয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনপ্রবাহে খুব দ্রুত এটি একটি বৃহৎ সংগীত আন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে ১,৫০০—এরও বেশি গান সৃষ্টি হয়। এই গানগুলোর মূল উদ্দেশ্য মানুষের না—বলা কথা ও জীবনের গল্পকে সহজ ভাষা ও কথাপ্রধান গানের মাধ্যমে প্রকাশ করা, যাতে সবার জন্য তা গাওয়া ও অনুভব করা সহজ হয়। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ফাঁকে রেকর্ড করা ভাবনা ও অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা এই গানগুলো শুধু সংগীত নয়, বরং মানুষের ভেতরের শিল্পীসত্তাকে জাগিয়ে তোলার একটি উন্মুক্ত পাঠশালা হিসেবে কাজ করছে।

যেভাবে শুরু হলো এই যাত্রা

মানুষ চিরকাল গান ভালোবেসেছে। অফিসে বা মাঠে কাজ করতে করতে, নৌকায় বা বিমানে বসে,সকাল থেকে সন্ধ্যা আলোয়  গান তাদের সঙ্গী। কিন্তু "গায়ক" হওয়ার স্বপ্নটা কখনো তাদের মনে সাহস করে উঁকি দিতে পারেনি। কারণ সমাজ শিখিয়েছিল, গান করতে হলে চাই প্রশিক্ষণ, চাই মঞ্চ, চাই বিশেষ প্রতিভা।

"উপকূলবন্ধুর গান" সেই দেয়ালটাই ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। উদ্যোগটির পেছনের ভাবনা ছিল সহজ কিন্তু বিপ্লবী  গান হবে কথা—প্রধান, ভাষা হবে সহজ, এবং দরজা থাকবে সবার জন্য খোলা। পেশাদার গায়ক না হলেও চলবে। শুধু মনে একটু সাহস থাকলেই হবে।

মানুষ যেভাবে বদলে গেল

উদ্যোগটি শুরু হওয়ার পর থেকেই একটু একটু করে বদলাতে থাকল চারপাশ।

যে কর্মী সারাজীবন মাঠে গুনগুন করতেন, তিনি একদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে গাইলেন। যে গৃহবধূ ঘরের চার দেয়ালে নিজের কণ্ঠ আটকে রেখেছিলেন, তিনি আবিষ্কার করলেন তাঁর গলায় কত সুর লুকিয়ে ছিল। কিশোর—কিশোরীরা বুঝল, গান শেখার জন্য শুধু স্কুলের বাইরেও একটা পৃথিবী আছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

যারা কখনো ভাবেননি গান তাদের জন্যও হতে পারে, তারাই এই উদ্যোগের হাত ধরে প্রথমবারের মতো গাইতে শুরু করলেন। দ্বিধা সরে গেল, ভয় কমল, কণ্ঠ খুলে গেল। "গায়ক" ধারণার নতুন সংজ্ঞা

একসময় "গায়ক" মানে ছিল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, মঞ্চসিদ্ধ কেউ। "উপকূলবন্ধুর গান" সেই সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিল। গায়ক এখন সে, যার মনে গান আছে যে গাইতে চায়। এটুকুই যথেষ্ট।

সংগীতচর্চার গণতান্ত্রিকরণ

সংগীত এখন আর বিশেষ শ্রেণির একচেটিয়া সম্পদ নয়। এটি ছড়িয়ে পড়েছে মাঠে, ঘাটে, উঠানে আবার মঞ্চেও। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদীর পাড় সর্বত্র এখন মানুষ গাইছে। সৃজনশীলতার নতুন জাগরণ । একই গান একসঙ্গে গাওয়া মানুষকে একত্র করে। ভিন্ন গ্রামের, ভিন্ন পেশার মানুষ একটি গানের মধ্য দিয়ে খুঁজে পাচ্ছে এক অদৃশ্য বন্ধন।

পর্যবেক্ষণ

"উপকূলবন্ধুর গান" আমাদের শিখিয়েছে সংগীতের দরজা যখন সত্যিকার অর্থে সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়, তখন সেই দরজা দিয়ে কত রকমের মানুষ, কত রকমের কণ্ঠ, কত অজানা প্রতিভা বেরিয়ে আসে তা কেউ কল্পনাও করেনি। সহজ ভাষা, উন্মুক্ত কাঠামো আর মানুষের প্রতি বিশ্বাস এই তিনটি উপাদান মিলে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন তৈরি করা যায়, তার জীবন্ত প্রমাণ এই উদ্যোগ।

উপসংহার

           "উপকূলবন্ধুর গান" আজ শুধু নাম নয় এটি একটি দর্শনের নাম। যে দর্শন বলে, গান কারো একার নয়। গান সবার। যে দর্শন বলে, মঞ্চ শুধু পেশাদারদের জন্য নয় মঞ্চ সেই মানুষটারও, যে প্রথমবারের মতো সাহস করে গলা ছেড়েছে। বাতাসে এখ ন নতুন সুর। সেই সুরেই হোক মানুষের জয়।

উপকূলবন্ধু সংখ্যা: ২
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র