28 June 2026 Sunday, 01:45 AM
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ রবিবার, 01:45 AM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

উপকূলবন্ধুর রচিত গান (২য় পর্ব) -আকাংখা সঙ্গীত

26 June 2026 03:53 PM 28 ভিউ রিমা আক্তার

সূচনা:

উপকূলবন্ধু রচনা করেছেন দেড় হাজারেরও অধিক গান—যা বাংলা গানের ভান্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক। তাঁর গানগুলো শুধু সুর বা বিনোদনের জন্য নয়, বরং জীবনের নানা অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও দর্শনের এক গভীর প্রতিফলন।

গত পর্বেই বলেছি তিনি তার গানগুলোকে ২৫ টি ধরনে বিভক্ত করেছেন, এর মধ্যে

 “আকাঙ্খা সঙ্গীত” যা উপকূলবন্ধুর সৃষ্ট এক নতুন ও অভিনব গানের ধারা হিসেবে অনন্য হয়ে উঠেছে। যেখানে তিনি “চাই” শব্দটিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

গানের বিষয়বস্তু:

সাধারণত মানুষের মনে কিছু সুপ্ত চাওয়া—পাওয়া থাকে যা মানুষ সবসময় পূরণ করতে পারে না!

এই তীব্র বাসনা বা অভিলাস মানুষকে পিছু করে বেড়ায়, ইচ্ছার সাগরে ভেসে বেড়ানো মানুষের স্বভাবগত প্রক্রিয়া। জীবনের নানা ঘাত—প্রতিঘাতে , প্রতিদিনকার প্রয়োজন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি মানুষের সেই চাওয়া পাওয়াকে পদদলিত করে বারংবার।

উপকূলবন্ধু তার রচিত আকাক্সক্ষা সঙ্গীতে তেমনই চাওয়া—পাওয়া ও বাসনার বিষয়বস্তু তুলে এনেছেন।

যেমন তিনি লিখেছেন— “প্রাণে প্রাণে প্রাণে প্রাণে মিল করে দাও

                         একে অপরের হৃদয়ের জ্ঞান বিনিময় করতে চাই”

এখানে তাঁর চাওয়া সকল প্রাণের মিলিত হওয়া, এছাড়া তিনি একে অপরের হৃদয়ের জ্ঞান বিনিময় করতে চেয়েছেন। তিনি বিশ^াস করেন— প্রত্যেকের মাঝেই কোনো না কোনো জ্ঞান বিরাজমান থাকে, সেই জ্ঞানকে সে ভাগাভাগি করে নিেতে চেয়েছেন।

আর একটি গানে তিনি লিখেছেন—

     আমি সাগর হতে চাই

                                                     পৃথিবীর সব বর্জ যন্ত্রণাকে বুকে ধারণ করে

                                                 পৃথিবীকে মুক্ত সুস্থ্য রাখতে চাই

তিনি একদিকে যেমন সাগর হতে চেয়েছেন তেমনি এই পৃথিবীর মঙ্গলার্থে সকল খারাপকে নিজের মধ্যে নিয়ে পৃথিবীর কল্যাণ করতে চেয়েছেন। এই গানটিতেও তার আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, নিজের কাছে নিজের চাওয়া। এই গানগুলোতে কেবলমাত্র আকাক্সক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যেখানে একজন মানুষ নিজের মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ইচ্ছা,বাসনা,চাওয়া ও আকাক্সক্ষা প্রকাশ করতে পারে।

নামকরণ:

প্রথমদিকে এই গানগুলোকে তিনি প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে বিবেচনা করলেও  পরবর্তীতে নিজের কাছ থেকে নিজের শিক্ষার মতবাদ থেকেই নিজের কাছে নিজের প্রার্থণা হিসেবে “আকাক্সক্ষা সঙ্গীত“ নামকরণ করেন।

 কথা ও সুর:

আকাক্সক্ষা সঙ্গীতে উপকূলবন্ধু মনের তীব্র বাসনা ও ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন— যেখানে  তিনি আকাশ, সাগর,সুন্দরবন,বৃক্ষ,বৃষ্টি ইত্যাদি হতে চেয়েছেন। আবার কখনো তিনি তার ঘুমন্ত অচেতন মনকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন, নিজের কাছ থেকে নিজেই শিখতে চেয়েছেন। প্রকৃতির এই গভীর স্নেহমাখা উপাদান গুলো হতে চাওয়া ও সেই ভাবনায় ডুবে থাকা এ যেন সৃষ্টির মাঝে নিজেকে মেলে ধরা। এ গানগুলোর সুরেও তিনি ব্যবহার করেছেন একদম হৃদয় স্পর্শী সুর,যা সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে দর্শক শ্রোতার হৃদয়ে প্রবেশ করে। তাইতো অবচেতন মন গেয়ে ওঠে— আমি সাগর হতে চাই বা আমি আকাশ হতে চাই। 

উপসংহার:

গান মানুষের জীবনে নানাভাবে প্রভাব ফেলে, একজন গীতিকার চাইলে তার লেখনীর মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেন, নতুন যুগের সৃষ্টি করতে পারেন। উপকূলবন্ধু তাঁর জীবন আদর্শ, চিন্তা চেতনা,দর্শন সবকিছু ফুটিয়ে তুলেছেন তার গানের মধ্যে, যেখানে আকাক্সক্ষা সঙ্গীত মানুষের,চিন্তা—চেতনা,আবেগ,অনুভূতি ও নিজের আত্মার শক্তিকে জাগ্রত করতে সহায়তা করে। তার এই রচনা আমাদের শেখায়— মানুষের অন্তরের বাসনা বা আকাক্সক্ষা পথ দেখায় সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে, অন্ধকারে আলোর মশাল জ্বালতে।

উপকূলবন্ধু সংখ্যা: ২
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র